Hari Bhakti Procharini Shova

Instilling the name of Sri Krishna and a spirit of devotion among ordinary people..

Contact

Jamini Bhaban, Prabaha-32, Machudighirpar, Sylhet.

  • sunrise icon Sunrise: Loading...

  • sunset icon Sunset: Loading...

  • Jamini Bhaban, Prabaha-32, Machudighirpar, Sylhet.

  • +880 1717 683 634

About Us

Instilling the name of Sri Krishna and a spirit of devotion among ordinary people.

About Us

শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভুর বংশ এবং দীক্ষা ধারা পরম্পরা।

 দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুই আমাদের ভজন ও বংশবৃক্ষের মূলকাণ্ড—

 “ভজে নিত্যানন্দং ভজন-তরু-কন্দং নিরবধি”

অর্থাৎ, তিনি সেই কেন্দ্রীয় কাণ্ড, যেখান থেকে এই পরম্পরার সমস্ত শাখা-প্রশাখা বিকশিত হয়েছে। তবে বোঝার সুবিধার্থে এখানে শ্রীশ্রী নিত্যানন্দ প্রভু ও শ্রীমতী জাহ্নবা মাতা ঠাকুরাণীকে পরম্পরা-বৃক্ষের শীর্ষে স্থাপন করে পরবর্তী প্রজন্মসমূহকে অবরোহী ধারায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

আমাদের পরম্পরা, ভগবান শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর রক্তধারা এবং দীক্ষা-পরম্পরার মধ্যে শিষ্য-পরম্পরার স্বরূপ সম্বন্ধে অধিকতর বিশদ আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

শ্রীমতী জাহ্নবা মাতা ঠাকুরাণী — আমাদের দীক্ষাধারার উৎস

শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু শ্রীমতী বসুধা মাতার গর্ভে দুই সন্তান দান করেছিলেন। কিন্তু শ্রীমতী জাহ্নবা মাতা ঠাকুরাণীকে তিনি অসংখ্য আধ্যাত্মিক সন্তান—অর্থাৎ শিষ্য—প্রদান করেছিলেন এবং সকলের উপর তাঁর বিশেষ কৃপা বর্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। এই কারণে আমাদের দীক্ষা-পরম্পরায় মাতৃভাবের বিশেষ গুরুত্ব বিদ্যমান, এবং সাধারণত মাতার মাধ্যমেই দীক্ষা প্রদান করা হয়।

তবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, যদি কোনো সন্তান দীক্ষাগ্রহণের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছানোর পূর্বেই তার মাতা অপ্রকট হন, তাহলে সে তার পিতা অথবা ঠাকুমার নিকট থেকে দীক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

জাহ্নবা মাতার নেতৃত্বে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের পুনর্জাগরণ

শ্রীশ্রী নিতাই, গৌরাঙ্গ এবং সীতানাথ তাঁদের প্রকাশ্য লীলা সমাপ্ত করার পর, তাঁদের নিকটাত্মীয় ও ভক্তবৃন্দ গভীর বিরহে নিমজ্জিত হন। কেউ নিত্যলীলায় প্রবেশ করেন, আবার কেউ নির্জন স্থানে গমন করে গভীর ভজনে আত্মনিয়োগ করেন।

এর ফলে প্রচারকার্য প্রায় সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ হয়ে যায় এবং গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ এক সংকটময় সময়ের সম্মুখীন হয়। ঈর্ষাপরায়ণ স্মার্ত ব্রাহ্মণগণ বৈষ্ণবদের প্রতি বিরূপ আচরণ করতে শুরু করেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে বিভিন্ন অপসম্প্রদায়ও গৌড়ীয় বৈষ্ণব পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। ফলে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সিদ্ধান্ত ও সাধন-পদ্ধতি সমাজে যথাযথ মর্যাদা হারাতে শুরু করে।

এই সময়ে শ্রীমতী জাহ্নবা মাতা ঠাকুরাণীই গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা, ব্যাপক প্রচারকার্য এবং নিতাই-গৌরাঙ্গ মহিমার প্রসারের মাধ্যমে সম্প্রদায়কে পুনরুজ্জীবিত করেন।

তাঁরই উদ্যোগে খেতুরীতে শ্রীগৌরপূর্ণিমা উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক মহোৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে সমগ্র ভারতবর্ষের গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ একত্রিত হয়েছিলেন। এই মহাসম্মিলন গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

আজ আমরা যে মহামন্ত্র এবং নিতাই-গৌরাঙ্গের নামসংকীর্তনের সুযোগ লাভ করেছি, তা মূলত শ্রীমতী জাহ্নবা মাতার অশেষ কৃপার ফল। এই কারণেই তাঁকে সমগ্র গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের জননী রূপে সম্মানিত করা হয়।

তাঁরই নির্দেশে বিভিন্ন মন্দিরে শ্রীশ্রী রাধা-কৃষ্ণ যুগলবিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়। পূর্বে বহু মন্দিরে কেবল শ্রীকৃষ্ণ (গোবিন্দ, গোপীনাথ বা মদনমোহন) বিরাজমান ছিলেন। শ্রীমতী জাহ্নবা মাতার কৃপায় আজ ভক্তবৃন্দ অধিকাংশ মন্দিরে যুগলরূপে শ্রীশ্রী রাধা-কৃষ্ণের দর্শন লাভ করেন।

কৃষ্ণলীলায় শ্রীমতী জাহ্নবা মাতা হলেন শ্রী অনঙ্গ মঞ্জরী—শ্রীমতী রাধারাণীর কনিষ্ঠ ভগিনী এবং গুরু-প্রণালী তথা মঞ্জরী-ধারার প্রধান আশ্রয়স্বরূপা।

 শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু

শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু হলেন শ্রীশ্রী রাধা ও কৃষ্ণের যুগল-স্বরূপ প্রকাশ। তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ, যিনি শ্রীমতী রাধারাণীর ভাব ও কান্তি গ্রহণ করে কলিযুগে আবির্ভূত হয়েছেন। এই কারণেই তিনি ‘গৌরাঙ্গ’ নামে পরিচিত—অর্থাৎ স্বর্ণবর্ণ প্রেমাবতার।

গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন অনুসারে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল শ্রীমতী রাধারাণীর প্রেমের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করা, তাঁর প্রেমের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণকে কেমন অনুভব করা যায় তা আস্বাদন করা এবং সেই প্রেম সমগ্র জগতে বিতরণ করা।

তিনি হরিনাম-সংকীর্তন আন্দোলনের প্রবর্তক এবং কলিযুগে জীবের পরম কল্যাণের জন্য মহামন্ত্র প্রচার করেছেন।

 শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু ও শ্রীমতী জাহ্নবা মাতা ঠাকুরাণী

(আমাদের দীক্ষা-পরম্পরার উৎস)

শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু ও শ্রীমতী জাহ্নবা মাতা ঠাকুরাণী আমাদের দীক্ষা-পরম্পরার মূল আশ্রয়।

গৌড়ীয় বৈষ্ণব তত্ত্ব অনুসারে, শ্রীজাহ্নবা মাতা কৃষ্ণলীলায় শ্রীঅনঙ্গ মঞ্জরীর প্রকাশ। অনঙ্গ মঞ্জরী শ্রীমতী রাধারাণীর কনিষ্ঠা ভগিনী এবং মঞ্জরী-পরম্পরার প্রধান আশ্রয়স্বরূপা।

শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর অপর পত্নী শ্রীমতী বসুধা মাতা নিত্যানন্দ-বংশের রক্তধারার উৎস। বসুধা মাতার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন শ্রীবীরচন্দ্র প্রভু এবং শ্রীগঙ্গা মাতা গোস্বামিনী।

এই পরম্পরায় দীক্ষাধারা এবং বংশধারা পৃথকভাবে বিবেচিত হয়। রক্তধারা সাধারণত পিতৃসূত্রে এবং দীক্ষাধারা সাধারণত মাতৃসূত্রে প্রবাহিত হয়েছে বলে এই পরম্পরায় বিবেচনা করা হয়।

শ্রীবীরচন্দ্র (বীরভদ্র) প্রভু

শ্রীবীরচন্দ্র প্রভু শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু ও শ্রীমতী বসুধা মাতার পুত্র এবং শ্রীমতী জাহ্নবা মাতার শিষ্য ও আধ্যাত্মিক পুত্র।

গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজে তিনি অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাঁকে বহু ভক্ত মহাপ্রভুর শক্তি-প্রকাশ এবং ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণুর অবতাররূপে বর্ণনা করেন।

নিতাই-গৌরাঙ্গের তিরোধানের পর গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজকে সুসংগঠিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি জাহ্নবা মাতার নেতৃত্বে বৈষ্ণবধর্মের প্রচার ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শ্রীবীরচন্দ্র প্রভুর কনিষ্ঠা ভগিনী ছিলেন শ্রীগঙ্গা মাতা গোস্বামিনী। তাঁর পতির নাম ছিল শ্রীমাধব আচার্য (মাধবানন্দ), যাঁদের বংশধারা থেকে নিত্যানন্দ-পরিবারের গঙ্গা-মাতা শাখার বিকাশ ঘটে।

শ্রীমতী নারায়ণী মাতা গোস্বামিনী

শ্রীমতী নারায়ণী মাতা গোস্বামিনী ছিলেন শ্রীবীরচন্দ্র প্রভুর পত্নী এবং শ্রীমতী জাহ্নবা মাতার দীক্ষাশিষ্যা। প্রচলিত বংশপরম্পরা অনুসারে, শ্রীবীরচন্দ্র প্রভুর দুই পত্নী ছিলেন—শ্রীমতী নারায়ণী দেবী এবং শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী।

বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন—

  • শ্রীগোপীজনবল্লভ প্রভু
  • শ্রীরামকৃষ্ণ প্রভু
  • শ্রীরামচন্দ্র প্রভু

এছাড়া ভুবনমোহিনী নামে এক কন্যার উল্লেখও বিভিন্ন বংশাবলীতে পাওয়া যায়।

শ্রীমতী গোবিন্দপ্রিয়া মাতা গোস্বামিনী

শ্রীমতী গোবিন্দপ্রিয়া মাতা ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল রামচন্দ্র গোস্বামীর পত্নী।

শ্রীরামচন্দ্র গোস্বামী ছিলেন শ্রীবীরচন্দ্র প্রভু ও শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর তৃতীয় পুত্র।

তাঁদের বংশধারার মাধ্যমেই পরবর্তী প্রজন্মে নিত্যানন্দ-বংশের এই বিশেষ শাখার বিকাশ ঘটে।

শ্রীমতী কদম্বমালা মাতা গোস্বামিনী

শ্রীমতী কদম্বমালা মাতা ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল রাধামাধব গোস্বামীর পত্নী।

শ্রীরাধামাধব গোস্বামী ছিলেন শ্রীমতী গোবিন্দপ্রিয়া মাতা ও শ্রীরামচন্দ্র গোস্বামীর পুত্র।


শ্রীমতী নবকুমারী মাতা গোস্বামিনী

শ্রীমতী নবকুমারী মাতা ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল রাজেন্দ্র গোস্বামীর পত্নী।

শ্রীরাজেন্দ্র গোস্বামী ছিলেন শ্রীমতী কদম্বমালা মাতা ও শ্রীরাধামাধব গোস্বামীর পুত্র।


শ্রীমতী কালিন্দী মাতা গোস্বামিনী

শ্রীমতী কালিন্দী মাতা ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল হরিগোবিন্দ গোস্বামীর পত্নী।

শ্রীহরিগোবিন্দ গোস্বামী ছিলেন শ্রীমতী নবকুমারী মাতা ও শ্রীরাজেন্দ্র গোস্বামীর পুত্র।


শ্রীমতী অন্নপূর্ণা মাতা গোস্বামিনী

শ্রীমতী অন্নপূর্ণা মাতা ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল সর্বেশ্বর গোস্বামীর পত্নী।

শ্রীসর্বেশ্বর গোস্বামী ছিলেন শ্রীমতী কালিন্দী মাতা ও শ্রীহরিগোবিন্দ গোস্বামীর পুত্র।


শ্রীমতী তারামণি মাতা গোস্বামিনী

শ্রীমতী তারামণি মাতা ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল লক্ষ্মীকান্ত গোস্বামীর পত্নী।

শ্রীলক্ষ্মীকান্ত গোস্বামী ছিলেন শ্রীমতী অন্নপূর্ণা মাতা ও শ্রীসর্বেশ্বর গোস্বামীর পুত্র।


প্রভুপাদ শ্রীল কৃষ্ণকিশোর গোস্বামী

প্রভুপাদ শ্রীল কৃষ্ণকিশোর গোস্বামী ছিলেন শ্রীমতী তারামণি মাতা ও প্রভুপাদ শ্রীল লক্ষ্মীকান্ত গোস্বামীর পুত্র। তিনি নিত্যানন্দ-বংশের এই ধারার অন্যতম প্রধান আচার্য হিসেবে সম্মানিত।


শ্রীমতী কিশোরী মাতা গোস্বামিনী

শ্রীমতী কিশোরী মাতা ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল কৃষ্ণকিশোর গোস্বামীর পত্নী।

তিনি পরম্পরার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শ্রীমতী শারদা সুন্দরী মাতা গোস্বামিনী

শ্রীমতী শারদা সুন্দরী মাতা গোস্বামিনী ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল অলকমোহন গোস্বামীর পত্নী।

তিনি শ্রীমতী কিশোরী মাতা গোস্বামিনী ও প্রভুপাদ শ্রীল কৃষ্ণকিশোর গোস্বামীর পুত্রবধূ ছিলেন। নিত্যানন্দ-বংশের এই ধারার আধ্যাত্মিক ও পারিবারিক উত্তরাধিকার রক্ষায় তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।


প্রভুপাদ শ্রীল অলকমোহন গোস্বামী

প্রভুপাদ শ্রীল অলকমোহন গোস্বামী ছিলেন শ্রীমতী কিশোরী মাতা গোস্বামিনী ও প্রভুপাদ শ্রীল কৃষ্ণকিশোর গোস্বামীর পুত্র।

তিনি ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল প্রাণগোপাল গোস্বামীর পিতা এবং পরম্পরার একজন সম্মানিত আচার্য।


প্রভুপাদ শ্রীল প্রাণগোপাল গোস্বামী

প্রভুপাদ শ্রীল প্রাণগোপাল গোস্বামী ছিলেন শ্রীমতী শারদা সুন্দরী মাতা গোস্বামিনী ও প্রভুপাদ শ্রীল অলকমোহন গোস্বামীর পুত্র।

তিনি বিংশ শতাব্দীর গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, আচার্য্য, সাধক ও লেখক হিসেবে সমাদৃত। তাঁর আধ্যাত্মিক জীবন, ভজন, উপদেশ ও সাহিত্যকর্ম অসংখ্য ভক্তের জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। ততকালীন বঙ্গসমাজের প্রায় সকল বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ তার শিষ্য বা অনুরাগী ছিলেন, এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন স্যার আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সি আর দাস, পি আর দাস, শরত চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভাস গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ। তিনি ভারত বিখ্যাত ভক্তি শাস্ত্র ব্যাখ্যাতা হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।

তাঁর পত্নী ছিলেন শ্রীমতী সরোজিনী মাতা। তাঁদের পরিবার ও শিষ্য-পরম্পরার মাধ্যমে তাঁর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার আজও প্রবাহমান।


প্রভুপাদ শ্রীল যদুগোপাল গোস্বামী

প্রভুপাদ শ্রীল যদুগোপাল গোস্বামী ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল প্রাণগোপাল গোস্বামী ও শ্রীমতী সরোজিনী মাতার পুত্র।

তিনি শ্রীমতী গীতা মাতা গোস্বামিনীর পতিদেব এবং বহু ভক্তের দীক্ষাগুরু ছিলেন। শ্রীল প্রাণকৃষ্ণ দাস বাবাজী মহারাজ তাঁর দীক্ষাশিষ্যদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত।

প্রচলিত বর্ণনা অনুসারে, শ্রীল প্রাণকৃষ্ণ দাস বাবাজী মহারাজকে দীক্ষা প্রদানের কিছুদিন পরেই তিনি অপ্রকট হন। পরবর্তীকালে প্রভুপাদ শ্রীল মদনগোপাল গোস্বামী তাঁর শিক্ষা-গুরু ও সিদ্ধ-প্রণালী গুরু হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


শ্রীমতী গীতা মাতা গোস্বামিনী

শ্রীমতী গীতা মাতা গোস্বামিনী ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল যদুগোপাল গোস্বামীর পত্নী।

তিনি নিত্যানন্দ-পরিবারের দীক্ষা-পরম্পরায় বিশেষভাবে সম্মানিত। পরম্পরার ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

তিনি প্রভুপাদ শ্রীল প্রেমগোপাল গোস্বামীর দীক্ষাগুরু ও পিতামহী (ঠাকুমা) ছিলেন।


প্রভুপাদ শ্রীল মদনগোপাল গোস্বামী

পাঠক সম্রাট প্রভুপাদ শ্রীল মদনগোপাল গোস্বামী ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল যদুগোপাল গোস্বামীর পুত্র এবং শ্রীমতী মায়া মাতা গোস্বামিনীর পতিদেব।

তিনি ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল নিত্যগোপাল গোস্বামী এবং প্রভুপাদ শ্রীল প্রেমগোপাল গোস্বামীর পিতা, শিক্ষা-গুরু এবং সিদ্ধ-প্রণালী গুরু।

এছাড়াও তিনি শ্রীল প্রাণকৃষ্ণ দাস বাবাজী মহারাজের শিক্ষা-গুরু ও সিদ্ধ-প্রণালী গুরু হিসেবে বিশেষভাবে সমাদৃত।

বর্তমান সময়ে যে সঙ্গীতময় শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ এবং নিত্যানন্দ ধারার এই প্লাবন যা মূলত প্রভুপাদ মদন গোপাল গোস্বামী মহারাজেরই অবদান।

প্রভুপাদ শ্রীল নিত্যগোপাল গোস্বামী

পাঠক সম্রাট প্রভুপাদ শ্রীল নিত্যগোপাল গোস্বামী হলেন প্রভুপাদ শ্রীল মদনগোপাল গোস্বামীর পুত্র এবং প্রভুপাদ শ্রীল প্রেমগোপাল গোস্বামীর অগ্রজ। তার সুমধুর কন্ঠের পরিবেশন এবং রসশাস্ত্রের নিগূঢ়তম সুললিত ও পল্লবিত সহজবোধ্য ব্যাখ্যা সম্বলিত শ্রীমদ্ভাগবত পাঠের জন্য তিনি পাঠক সম্রাট উপাধি লাভ করেন। তাঁর শাস্ত্রগুরু (আচার্য-গুরু) ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল নিশীথ কুমার গোস্বামী, যিনি তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব পণ্ডিত হিসেবে সমাদৃত ছিলেন।

 

তিনি শ্রীমতী সোমা দেবীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাঁদের পুত্র হলেন প্রভুপাদ শ্রীল গোবিন্দগোপাল গোস্বামী।

বর্তমানে এই বঙ্গীয়তটের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভক্তবৃন্দকে গৌর-নিতাই নামের প্লাবনে অভিসিঞ্চিত করে চলেছেন পাঠক সম্রাট প্রভুপাদ শ্রীল নিত্যগোপাল গোস্বামী মহারাজ।


প্রভুপাদ শ্রীল প্রেমগোপাল গোস্বামী

প্রভুপাদ শ্রীল প্রেমগোপাল গোস্বামী পাঠক সম্রাট প্রভুপাদ মদনগোপাল গোস্বামীর কনিষ্ঠ আত্মজ এবং পাঠক সম্রাট প্রভুপাদ শ্রীল নিত্যগোপাল গোস্বামীর অনুজ।

তিনি শ্রীমতী গীতা মাতা গোস্বামিনীর দীক্ষাশিষ্য এবং প্রভুপাদ শ্রীল মদনগোপাল গোস্বামীর শিক্ষা-শিষ্য। অগ্রজ প্রভুপাদ শ্রীল নিত্যগোপাল গোস্বামীর মতো তাঁর শাস্ত্রগুরুও (আচার্য-গুরু) ছিলেন প্রভুপাদ শ্রীল নিশীথ কুমার গোস্বামী।

অপুর্ব আঙ্গিকে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ পরিবেশনের জন্য তিনি ভাগবতরত্ন উপাধি লাভ করেছেন।

তিনি শ্রীমতী উপাসনা দেবীর সঙ্গে বিবাহিত এবং শ্রীমতী অলংকৃতা দেবীর পিতা।

ভাগবতরত্ন প্রভুপাদ শ্রীল প্রেমগোপাল গোস্বামী ভক্তি, শাস্ত্রচর্চা ও গুরু-পরম্পরার আদর্শকে সমুন্নত রেখে দেশ বিদেশের ভক্তসমাজকে পথনির্দেশ দিয়ে চলেছেন।


প্রভুপাদ শ্রীল গোবিন্দগোপাল গোস্বামী

প্রভুপাদ শ্রীল গোবিন্দগোপাল গোস্বামী শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর পঞ্চদশ প্রজন্মের বংশধর।

তিনি পাঠক সম্রাট প্রভুপাদ শ্রীল নিত্যগোপাল গোস্বামী ও শ্রীমতী সোমা দেবী গোস্বামীনির পুত্র এবং শ্রীমতী মনীষা দেবী গোস্বামীনির পতিদেব।

তিনি পারিবারিক ও আধ্যাত্মিক উভয় পরম্পরার উত্তরাধিকার বহন করছেন। তিনি মাতৃপরম্পরা থেকে দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং প্রভুপাদ শ্রীল নিত্যগোপাল গোস্বামী ও প্রভুপাদ শ্রীল প্রেমগোপাল গোস্বামীর সান্নিধ্যে আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ করেন।


উপর্যুক্ত গুরু-প্রণালী ধারায় উল্লিখিত গুরুজনদের মঞ্জরী-পরিচয়, যা সিদ্ধ-প্রণালী, মঞ্জরী-স্বরূপ পরিচয় অথবা একাদশ-ভাব নামে পরিচিত, যথাসময়ে যোগ্য গুরু কর্তৃক শিষ্যের নিকট প্রকাশিত হয়।

এই দীক্ষা-পরম্পরা কেবল একটি বংশানুক্রমিক ধারাই নয়; বরং এটি শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু ও শ্রীমতী জাহ্নবা মাতার কৃপাধারায় প্রবাহিত এক জীবন্ত আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার, যা যুগে যুগে ভক্তসমাজকে ভক্তি, সাধনা ও প্রেমের পথে পরিচালিত করে আসছে।

 জয় নিতাই